A Brief History of Time . Part-1 [Popular Science]
সময়ের
ইতিবৃত্ত
বিগব্যাং
থেকে ব্ল্যাকহোল
স্টিফেন হকিং
সটীক অনুবাদঃ দেবজ্যোতি বল্লভ
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
১৯৮২ সালে হার্ভার্ডে লোয়েব(Loeb)
লেকচার দেওয়ার পর পরই আমি ঠিক করি সর্বসাধারণের জন্য দেশ ও কাল (Space and Time) সম্পর্কিত
একখানা বই লেখার চেষ্টা করব । মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা ও ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর
সম্পর্কে ইতিমধ্যে বেশ কিছু বই লেখা হয়েছে । তাদের মধ্যে খুব ভাল বই যেমন আছে যথা,
স্টিভেন ওয়েনবার্গের “প্রথম তিন মিনিট” ( The First Three Minutes) তেমনি খুব খারাপ
বইও আছে (যদিও সেটার আর নাম করব না ) । যাই হোক আমার মনে হয়েছিল যে সমস্ত প্রশ্ন আমার
সৃষ্টিতত্ত্ব (Cosmology ) ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের গবেষণায়
পথ দেখিয়েছে তাদের কোনোটাই এই বইগুলিতে সঠিকভাবে আলোচিত হয়নি । যেমন : মহাবিশ্ব কোত্থেকে
এসেছে ? , কি করে এর শুরু হল ? কেনই বা হল ? এ কি একদিন শেষ হয়ে যাবে ? যদি হয় তবে
কিভাবে ? এই প্রশ্নগুলি সম্পর্কে সবারই কৌতুহল রয়েছে । কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এতই জটিল
হয়ে গেছে যে শুধুমাত্র কতিপয় বিশেষজ্ঞই সেই সকল গণিত বুঝতে পারেন যার দ্বারা এসবের
ব্যাখ্যা দেওয়া যায় । তবুও ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি ও নিয়তি সম্পর্কে সাধারণ ধারণাগুলো
গণিতের সাহায্য ছাড়াই বলা যায়, যাতে করে সাধারণ মানুষ কোনোরকম বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ছাড়াই
তা বুঝতে পারে ।এই কারণেই আমি এই বই লেখার চেষ্টা করেছি । এখন কতটা সফল হয়েছি সেটা
পাঠকই বিচার করবেন ।
আমাকে কেউ একজন বলেছিল আমার দেওয়া
প্রতিটা সমীকরণের জন্য পাঠক সংখ্যা অর্ধেক করে কমে যাবে । আমি তাই ঠিক করি একটাও সমীকরণ
দেব না । কিন্তু শেষ অবধি আমি একটাই সমীকরণ দিয়েছি , সেটা হল আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণ
E=mc2. আশা করি এতে আমার সম্ভাব্য অর্ধেক
পাঠক ভয়ে পালিয়ে যাবেন না ।
দুর্ভাগ্যবশত ALS বা মোটর নিউরোন ব্যাধিতে
আক্রান্ত হওয়া ছাড়া আমি অন্য সব বিষয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি । আমার স্ত্রী জেন,
আমার সন্তান রবার্ট, লুসি আর টিমির থেকে যে সাহায্য পেয়েছি তাতে করে সফল কর্মজীবন ও
দিব্যি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি । আবারও আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি তত্ত্বীয়
পদার্থবিদ্যার মতো বিষয় নির্বাচন করেছি বলে । সেটাই আমার সমগ্র সত্তা জুড়ে রয়েছে ।
তাই আমার অক্ষমতা তেমন গুরুতর স্থবিরতায় পরিণত হয়নি । আমার বৈজ্ঞানিক সতীর্থরা নিঃসন্দেহে
অত্যন্ত সহায়ক ।
আমার কর্মজীবনের প্রথমে ক্লাসিকাল
পর্যায়ের প্রধান সহকারীরা হলেনঃ রজার পেনরোজ (Rodger Penrose) , রবার্ট গেরখ
(Robert Geroch) , ব্রান্ডন কার্টার (Brandon Carter) , এবং জর্জ এলিস্ (Gorge
Ellis) । যে সাহায্য তারা করেছে এবং যে সকল কাজ আমরা একসাথে করেছি তার জন্য আমি তাদের
কাছে কৃতজ্ঞ ।
এই অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার রয়েছে
“The Large Scale Structure of Spacetime” নামক বইটিতে । এটা ১৯৭৩ সালে আমি আর এলিস
একসাথে লিখেছিলাম । আমার উপদেশ এই বইয়ের পাঠকগণ বাড়তি তথ্যের জন্য উক্ত পুস্তিকার দ্বারস্থ
হবেন না — ওটা অত্যন্ত জটিল বৈজ্ঞানিক কলাকৌশলে পরিপূর্ণ এবং বেশ দুষ্পাঠ্য । আমার
মনে হয় তারপর থেকেই আমি সহজবোধ্য বই লিখতে শিখেছি ।
আমার কর্মজীবনের দ্বিতীয় দশা অর্থাৎ
কোয়ান্টাম পর্যায়ে ১৯৭৪ সাল থেকে আমার প্রধান সহযোগী ছিলেন গ্যারী গিবন্স্ (Gary
Gibbons) , ডন পেজ (Don Page) এবং জিম হার্টেল (Jim Hartle) । তাঁদের এবং আমার গবেষক
ছাত্রদের কাছে আমার অনেক ঋণ । যেভাবে তারা আমাকে দৈহিক ও তাত্ত্বিক দিক থেকে সাহায্য
করেছেন তা সত্যিই অনস্বীকার্য । ছাত্রদের সঙ্গে একত্রে কাজ করা আমাকে ভীষণভাবে উদ্বুদ্ধ
করেছে । আমার ধারণা সেই জন্যই কোনো খাতে কখনও আটকে পড়িনি ।
এই বইটির ব্যাপারে আমার ছাত্র ব্রায়ান
হুইটের (Brian whitt) কাছ থেকে প্রচুর সাহায্য পেয়েছি । প্রথম খসড়া লেখার পর ১৯৮৫ সালে
আমার নিউমোনিয়া হয় । আমাকে একটি শ্বাসনালীর
অপারেশন করাতে হয় আর তাতে আমার বাকশক্তি চলে যায় । ফলে কারও সাথে কমিউনিকেট করাও দুঃসাধ্য
হয়ে ওঠে । ভেবেছিলাম হয়ত আর শেষ করতে পারব না । যাই হোক, ব্রায়ান আমাকে শুধু পুনঃসংশোধনেই
সাহায্য করেনি উপরন্তু সে আমাকে লিভিং সেন্টার নামক যোগাযোগ পদ্ধতির যন্ত্রের ব্যবহারেও
সহায়তা করেছে । এটা আমাকে দেয় ক্যালিফোর্নিয়া, সানিডেলের, ওয়ার্ড প্লাস ইনকর্পোরেটের
ওয়াল্ট ওলটোজ (Walt Woltosz) ।
এটার সাহায্যে আমি বই ও পেপার লিখতে
পারি এবং সেইসঙ্গে লোকের সাথে একটা স্পীচ্ সিন্থেসাইজারের সাহায্যে কথাও বলতে পারি
। এটাও দান করেছে ওই সানডেলি ,ক্যালিফোর্নিয়ার স্পীচ্ প্লাস । এই সিন্থেসাইজার আর
একটা ছোট পার্সোন্যাল কম্পিউটার ডেভিড ম্যাসন (David Mason) আমার হুইল চেয়ারে আটকে
দিয়েছেন । এর ফলে বিরাট পার্থক্য ঘটেছে । এমনকি এখন আমি আমার কণ্ঠস্বর নষ্ট হবার আগের
চেয়ে অনেক ভাল কথাবার্তা বলতে পারি ।
যাঁরা প্রথম খসড়াটি দেখেছিলেন তাঁদের
অনেকেই বইটির উন্নতির জন্য অনেক উপদেশ দিয়েছেন । বিশেষ করে পিটার গুজার্ডি (Peter
Guzzardi), ব্যাটম্যান বুকস্ এর আমার এডিটর
পাতার পর পাতা মন্তব্য আর যে সব বিষয় বোধগম্য হয়নি সেই সব বিষয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছেন ।
সত্যি কথা বলতে কি তাঁর এই পাল্টাবার জিনিসের তালিকার সংশোধন করতে গিয়ে রীতিমত বিরক্তই
হয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ঠিকই করেছিলেন । তিনি মাটিতে আমার নাকটা ঘষে দেবার ফলে নিঃসন্দেহে
এই বইটা এখন অনেক ভাল হয়েছে ।
আমার সহকারী কলিন উইলিয়ামস (Colin
Williams), ডেভিড থমাস (David Thomas) এবং রেমণ্ড লাফ্লাম (Raymond Laflamme); আমার
সেক্রেটারী জুডি ফেল্লা (Judy Fella), অ্যান র্যালফ (Ann Ralph), চেরিল বিলিংটন (Cheryl
Billington) এবং সু ম্যাসে (Sue Masey) এবং আমার নার্সদের দলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ । আমার
গবেষণা ও চিকিৎসা বাবদ গনভিল (Gonville) এবং কাইয়াস (Caius) কলেজ, দি সায়েন্স এন্ড
ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ কাউন্সিল, এবং লেভারহিউম (Leverhulme), ম্যাক আর্থার(McArthur),
নুফিল্ড (Nuffield) এবং র্যালফ স্মিথ ফাউন্ডেশনের (Ralph Smith Foundation) সাহায্য
ব্যাতীত এসব কিছুই সম্ভব হত না । তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ ।
—স্টিফেন হকিং
২০ শে অক্টোবর, ১৯৮৭
ভূমিকা
মহাবিশ্বের কিছু না জেনেই আমরা দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা
করি । প্রাণের অস্তিত্বের জন্য দায়ী যে সূর্যালোক, তার উৎসে থাকা কলকাঠি; পৃথিবীকে
ধরে রয়েছে যে মহাকর্ষ বল ,যা না থাকলে হয়ত আমরা মহাশূন্যে ছিটকে যেতাম; অথবা সেই সব
অনু-পরমাণু যা দিয়ে আমরা তৈরি ও যাদের স্থায়িত্বের উপর আমাদের অস্তিত্ব নির্ভর করছে—
তা নিয়ে আমাদের ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে । কেবলমাত্র শিশুরা (তারা এখনো বেশি জানে
না বলে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন করা এখনো বন্ধ করেনি) ছাড়া কতিপয় ব্যক্তিই এসব বিষয়ে আমোল দেন বা অবাক হন । প্রকৃতিকে
যেমন দেখি, প্রকৃতি সেরকমই কেন হল; ব্রহ্মাণ্ড কোথা থেকে এল; অথবা মহাবিশ্ব কি চিরকাল
এখানেই ছিল; সময়ের স্রোত যদি হঠাৎ উলটো দিকে বইতে শুরু করে, আর কার্য কারণের পূর্বে ঘটে;
অথবা মানুষের জ্ঞানের চরম সীমা আছে কি — এইসব ভেবে কম লোকই অবাক হন । আমি এমনও কিছু বাচ্ছাকে দেখেছি
যারা জানতে চায় ব্ল্যাকহোল (কৃষ্ণগহ্বর) কেমন দেখতে; অথবা পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাটি
কি; কেন আমরা অতীত কে মনে রাখি, ভবিষ্যতকে নয়; কি হত যদি আগে বিশৃঙ্খলা (Chaos) থেকে থাকে আর
এখন শৃঙ্খলা (Order) এবং মহাবিশ্ব কেন রয়েছে ।
আমাদের সমাজে এখনো পিতা-মাতা ও শিক্ষকরা এই সমস্ত প্রশ্নের
উত্তরে হয় ঘাড় বেঁকান অথবা পৌরাণিক ধ্যান-ধারণার অবতারনা করেন । কেউ কেউ তো এসব ব্যাপারে
বিরক্তও হন । তার কারণ মানুষের বোধশক্তির সীমাবদ্ধতা এই প্রশ্নগুলি স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত
করে ।
কিন্তু বিজ্ঞান ও দর্শন এইসব জিজ্ঞাসার দ্বারাই তাড়িত
হয়ে এসেছে । ক্রমবর্ধমান কিছু সংখ্যক লোক এই ধরনের প্রশ্ন করতে আগ্রহী । মাঝেমাঝে তাঁরা
খুবই আশ্চর্যজনক উত্তর পাচ্ছেন । পরমাণু ও নক্ষত্রের থেকে সমদূরত্বে থেকে আমরা অনুসন্ধানাত্মক
দিগন্তকে প্রসারিত করে চলেছি অতিক্ষুদ্র ও অতিবৃহৎ কে আলিঙ্গন করার উদ্দেশ্যে ।
ভাইকিং স্পেসক্রাফ্ট (Viking SpaceCraft) মঙ্গলে অবতরণের
দুবছর আগে ১৯৭৪ সালের বসন্তে আমি ইংলণ্ডের রয়্যাল সোসাইটি অফ লণ্ডন পরিচালিত একটি আলোচনাসভায়
যোগদান করি । বিষয় ছিল— ভিনজগতের প্রানের সন্ধান কিভাবে করা যায় । কফির বিরতির সময়
লক্ষ্য করলাম পার্শ্ববর্তী একটি হলে এর চেয়ে একটা বড় আলোচনা সভা বসেছে । কৌতূহলবশত
ঢুকেই পড়লাম । ঢুকেই মনে হল যেন সুপ্রাচীন ধর্মানুষ্ঠান দেখছি । রয়্যাল সোসাইটির নতুন
এক ফেলোর অভিষেক চলছে, এই গ্রহের সর্বপ্রাচীন এই পাণ্ডিত্যপূর্ন প্রতিষ্ঠানে । প্রথম
সারিতে একটি যুবক হুইল চেয়ারে বসে খুব ধীরে ধীরে একটা কেতাবে সই করছে । যার প্রথম পাতায়
খোদাই করা আইজ্যাক নিউটনের সাক্ষর । যখন তিনি শেষ করলেন সারা হল তার জয়জয়কারে মথিত হয়ে গেল । তখন থেকেই স্টিফেন হকিং লেজেন্ড
।
হকিং এখন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান প্রফেসর
অফ ম্যাথামেটিক্স, যে পদ একসময় অলংকৃত করেছিলেন নিউটন এবং পল ডিরাক (P.A.M Dirac)—
অতিবৃহৎ ও অতিক্ষুদ্র জগতের দুই দিকপাল গবেষক । হকিং তাঁদের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী।
অ-বিশেষজ্ঞদের জন্য এটাই হকিং এর প্রথম বই । সাধারণ লোকের জন্য এ এক অভিনব পুরস্কার
। বইটির বিস্তৃত পরিসর বিষয়, লেখক মনের সুলুকসন্ধান এর আভাসের মতই চিত্তাকর্ষক । মহাকাশতত্ত্ব (Astronomy ),
সৃষ্টিতত্ত্ব (Cosmology) এবং সাহসের এক অদ্ভুত মিশেল ।
বইটা ঈশ্বর-সম্বন্ধীয়ও বটে , অথবা ঈশ্বরের অবর্তমানতা
সম্পর্কে । ‘ঈশ্বর’(God) শব্দটা এর পাতায় পাতায় আছে । হকিং আইনস্টাইনের সেই বিখ্যাত
প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করেছেন— মহাবিশ্বের সৃষ্টির সময় আদৌ ঈশ্বরের কোনো বিকল্প
ছিল কি ? হকিং চেষ্টা করেছেন, যা তিনি স্পষ্ট ভাবেই বলেছেন, তা হল ঈশ্বরের মনকে বুঝতে ।
এবং এটাই এই প্রচেষ্টার সবথেকে অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তগুলিকে যতটা পারা যায় সামনে এনেছে
। যথাঃ মহাবিশ্বে দেশের (Space) সীমানা নেই, সময়ের আদি, অন্ত নেই, সৃষ্টিকর্তার কিছু
করার নেই ।
—কার্ল সেগান
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়
ইথাকা, নিউইয়র্ক
অনুবাদকের
কৈফিয়ৎ
আজকের জমানায় আট থেকে আশি
স্টিফেন হকিং এর নাম শোনেনি এমন লোক পাওয়া ভার । আর এর প্রধান কারণ তাঁর বই ‘A
Brief History of Time’. History মানে তো ইতিহাস আর ইতিহাস মানেই সময়ের পাতায় পিছন ফিরে
দেখা । কিন্তু সময়ের ইতিহাস ? তাহলে কালেরও কি কাল আছে ? আজ্ঞে হ্যাঁ । সেই ইতিহাসেরই
গল্প শোনাতে এসেছেন স্টিফেন হকিং । এ গল্পের শুরু ব্রহ্মাণ্ডের জন্ম লগ্ন থেকে । হকিং
এর মানসচক্ষে তাই আমরা সকলেই সময়ের যাত্রি (Time Travelar) —চলেছি অতীত থেকে ভবিষ্যতের
পথে । সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মানুষ সময়ের হিসেব করে চলেছে । তার নানান মাপকাঠি
। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সেই হিসেবের জটিলতা । মাপকাঠি গিয়ে
ঠেকেছে একেবারে অনু-পরমাণুর জগতে । বিশ্বব্রহ্মাণ্ডেরও বয়স বাড়ছে । এতো আর হযবরল নয়
যে চল্লিশের পরে গেলেই বয়স ঘুরিয়ে দেবে, তখন আর একচল্লিশ, বিয়াল্লিশ না হয়ে উনচল্লিশ, আটতিরিশ করে বয়স কমতে থাকবে ! তাই বুড়ো ব্রহ্মাণ্ডের ছবিও দিনকে দিন পালটে
যাচ্ছে । আর বদলাচ্ছে মানুষের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি । সময়কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আমদের প্রথম
দিয়েছিলেন নিউটন । সেই দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে ভেঙ্গেচুরে দিলেন আইনস্টাইন । তৈরি হল আপেক্ষিকতাবাদ
। বদলে গেল মাপকাঠি । দেশ-কালকে একেবারে একঘরে করে ছাড়লেন । একই পাল্লায় মাপা হতে থাকল
সময় । মুণ্ডু ঘুরে গেল প্রাচীনপন্থীদের । সালটা ছিল ১৯০৫ ।
১৯১৫ সালে আবার ফাটালেন
বোমা । তেউড়ে গেল দেশকালের জ্যামিতি । নিউটনের ধারণা হল ব্রাত্য । আবার নতুন করে সংজ্ঞায়িত
হল মহাকর্ষের ধারণা ।
এত গেল বড় বড় জিনিসের
কথা । এবারে চলে আসি গ্যালিভার্স ট্রাভেলের জগতে । আজ্ঞে না লিলিপুটদের দেশ নয়, এ হল
অনু-পরমাণুর জগৎ । সেখানে আবার সবই অনিশ্চিত । একেকটাকে খুঁজে পাওয়াই ভার । একেবারে
হযবরল এর গেছো-দাদার মত । তারসাথে দেখাটি হবার যো নেই । ‘মনে কর তুমি যখন যাবে উলুবেড়ে
তাঁর সঙ্গে দেখা করতে , তখন তিনি থাকবেন মতিহারি । যদি মতিহারি যাও তাহলে শুনবে তিনি
আছেন রামকিষ্টপুর । আবার সেখানে গেলে দেখবে , তিনি গেছেন কাশিমবাজার ।’ তাহলে দেখা
হবার উপায় ? ‘সে অনেক হাঙ্গাম । আগে হিসেব করে দেখতে হবে, দাদা কোথায় কোথায় নেই; তারপর
হিসেব করে দেখতে হবে, দাদা কোথায় কোথায় থাকতে পারে; তারপর দেখতে হবে, দাদা এখন কোথায়
আছে । তারপর দেখতে হবে, সেই হিসেব মতো যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছবে, তখন দাদা কোথায় থাকবে
।..’ কতকটা এভাবেই খুঁজেপেতে বের করতে হয় পরমাণু জগতের বাসিন্দাদের । একেকটা একেবারে
গেছোদাদার জাতভাই । এদের নিয়েই তৈরি হল নতুন তত্ত্ব — কোয়ান্টাম তত্ত্ব । আর এর মূল
ভিত্তিই হল অনিশ্চয়তাবাদ । দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী হাইজেনবার্গ । সালটা ১৯২৭ কি ১৯২৮ ।
এর পরপরই ধুম পড়ে গেল আবিস্কারের । নতুন নতুন কণা আবিস্কার হতে লাগল বিজ্ঞানীদের হাত ধরে ।
এদিকে সারাবিশ্বে তখন হইহই রইরই কাণ্ড । শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ । ১৯৩৯ থেকে
এটা চলে ১৯৪৫ পর্যন্ত । আমদানি হতে লাগল নিত্যনতুন অস্ত্রশস্ত্র । তবুও বাগে আনা গেল
না অক্ষশক্তিকে । বিজ্ঞানীরা আবার শুরু করলেন কাকেশ্বরের হিসেব নিকেশ । তৈরি হল ম্যান-হাটান
প্রকল্প । মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শেষমেশ পাওয়া গেল তাদের সাত রাজার ধন এক মানিক । হাতিয়ার
হল পরমাণু । মূলে রইল ভর ও শক্তির গাঁটছড়া । যে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন আইনস্টাইন তাঁর
১৯০৫ সালের তত্ত্বে সেটাই হয়ে দাঁড়াল একালের
ব্রহ্মাস্ত্র । উড়ে গেল জাপানের দুই শহর । বন্ধ হল যুদ্ধ ।
ওদিকে তখন গোকুলে বাড়ছে আরেক বিজ্ঞানী । স্কুলের ছেলেরা মজা করে ডাকে আইনস্টাইন বলে । আপাত শান্ত এই ছেলের মনে উঁকি দেয় নানান প্রশ্ন । ব্রহ্মাণ্ডের খেয়াল রসের মধ্যেই সে খুঁজে চলে এক নতুন পথের দিশা । মেলাতে চায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎকে । বুঝতে চায় সৃষ্টিকর্তার মন । আধুনিক বিজ্ঞানের জগতে তখন নতুন সূর্য উদীয়মান । সৃষ্টিতত্ত্বে এসেছে স্বর্ণযুগ । মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন জোয়ার । একের পর এক আবিস্কার হয়ে চলেছে নতুন নতুন ছায়াপথ । আবিস্কার হয়েছে মহাবিশ্বের নতুন অতিথির, যার নাম ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর—নক্ষত্রের প্রেতাত্মা । খাই খাইতে জুরি মেলা ভার এই রাক্ষুসে দানবদের। কথায় বলে ছাগলে কিনা খায়, আমি বলি ব্ল্যাকহোলে কিনা খায় । মাকড়সার জালের মতো ছায়াপথগুলির ঠিক মধ্যিখানে বসে আছে একেকটা করে দৈত্যাকার ব্ল্যাকহোল । নতুন অতিথির স্বভাব জানতে বিজ্ঞানীরাও দিশেহারা । কালোপানা দৈত্যদের কিসে অরুচি সেটাই হল প্রশ্ন । জন্মের পর থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমাগত বদলাচ্ছে । অতীতে ছিল উত্তপ্ত ও ঘন । আর এখন তা ঠাণ্ডা ও লঘু । সময়ের এই অবদান বিজ্ঞানীদের কাছে এক বিশ্ময় । ওঁরা দেখেন সময়ের একটা অভিমুখ রয়েছে । যাকে ওঁরা নাম দিয়েছেন, 'অ্যারো অফ টাইম'— সময়ের তির । বান যেমন একদিক থেকে আরেকদিকে ছোটে, এও তেমনি । কী রকম ? এই যেমন ডিম থেকে অমলেট হয়, অমলেট থেকে ডিম হয় না । এই যে ডিম থেকে অমলেট পাওয়া যায়, বিপরীতটা যায় না, এটা তাপগতিবিদ্যার বিখ্যাত একটা সুত্র । তার গাল ভরা নাম "থার্মোডায়নামিক প্রিন্সিপল্ অফ এনট্রপি" । বাংলায় ছোট করে বলা যায় বিশৃঙ্খলার পরিমাণ । ব্রহ্মাণ্ডের একটা বড় নিয়মই হল এখানে বিশৃঙ্খলা বাড়ে, কমে না কখনো । অমলেটের কণাগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে ডিমের আকার দেওয়া পারত পক্ষে অসম্ভব । এখানে ডিম হল শৃঙ্খলা আর অমলেট বিশৃঙ্খলা । শৃঙ্খলা থেকে বিশৃঙ্খলায় যাওয়া সহজ, উল্টোটা কঠিন । প্রকৃতি তো সহজ কাজটাই করতে চাইবে নাকি ? কিন্তু মানুষের মত সহজ কাজ প্রকৃতিরও কেন প্রিয়, তার উত্তর জানেন না বিজ্ঞানীরা । যদি তা জানতেন, তা হলে সময়ের অভিমুখ কেন একদিকেই, সে গূঢ় প্রশ্নের উত্তর মিলত । মিলছে না বলেই বিজ্ঞানীরা ধন্দে পড়লেন । উত্তর দিলেন এক তরুণ বিজ্ঞানী । বললেন যতটা কালো মনে হয় ব্ল্যাকহোল ততটাও কালো নয়—“BLACK HOLES AIN’T SO BLACK.” তাপগতিবিদ্যার সঙ্গে গাঁটছড়া দিলেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের । দিগন্ত খুলে গেল মহাকাশ বিজ্ঞানের। সমস্ত শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এই বিজ্ঞানী আজীবন গেয়ে গেছেন বিজ্ঞানের জয়গান । সার্থক হয়েছে তাঁর প্রকৃতির বালুচরে নুড়ি কোড়ানো । মানুষকে শুনিয়েছেন আশার বাণী —“However bad life may seem, there is always something you can do, and succeed at. While there's life, there is hope.”
এই বইটা আমার খুবই
পছন্দের একটা বই । চেনা জিনিসের অচেনা আদল, নতুন পথের সুলুকসন্ধান, ইতিহাসের সালতামামি,
স্থানকালপাত্রের ঠিকুজি-কুলুজি আর স্মৃতি-বিস্মৃতির কিওরোস্কিউরোতে ঠাসা মায়াময় এক
পথ চলা । যে পথের শেষে খুঁজে পাই আমাদের অস্তিত্বের শেকড় । তাই ধৃষ্টতা দেখিয়েই ভার
নিয়েছি এর অনুবাদের । আইনস্টাইন বলেছেন গণিত বিজ্ঞানের ভাষা হলেও সে ভাষাকে সাধারণের
ভাষায় অনুবাদ করা অসম্ভব নয় । প্রতিকুলতা ও সমস্যা অনেক । বিজ্ঞানের পরিভাষাও জটিল
। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি সটীক অনুবাদের । এখন লেখকের প্রতি কতটা সুবিচার করেছি তার বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম পাঠকের ওপর । যে কোনো বিষয়ে জানার প্রথম সোপানই হল ঐ বিষয়ের
সাধারণ গ্রাহ্য তত্ত্ব ও তথ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া । এই তথ্যই হাতের মোয়ার মত আপনাদের
কাছে তুলে দেওয়ার জন্য এই টীকা । পরিশেষে স্মরণ করি সেই বাঙালি বিজ্ঞানীর কথা । পরম
শ্রদ্ধাস্পদ আচার্য্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু । তাঁর ভরসাতেই বাংলা ভাষাকে মাধ্যম করেছি
।
“যারা বলে যে বাংলাভাষায়
বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব নয়, তারা হয় বাংলা জানে না নয় বিজ্ঞান বোঝেনা ।”
ইতি
অনুবাদক
১ লা নভেম্বর ,২০২০
স্টিফেন হকিং ( ৮ ই জানুয়ারি, ১৯৪২ - ১৪ ই মার্চ, ২০১৮)
স্টিফেন উইলিয়াম হকিং বা স্টিফেন হকিং (Stephen William Hawking; ৮ই জানুয়ারি, ১৯৪২ – ১৪ই মার্চ, ২০১৮) একজন ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী , গণিতবিদ, বিশ্বতাত্ত্বিক ও বিজ্ঞান-বিষয়ক জনপ্রিয় ধারার লেখক। তাঁকে ২০শ শতকের অন্যতম সেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। হকিং যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডের কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক মহাবিশ্বতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল কসমোলজি) প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসীয় অধ্যাপক ছিলেন এবং ২০০৯ সালের ১ লা অক্টোবর এই পদ থেকে অবসর নেন। এছাড়াও তিনি কেমব্রিজ নগরীর গনভিল অ্যান্ড কিজ কলেজের সভ্য (ফেলো) হিসেবে কাজ করেন।
হকিং এর জন্ম ১৯৪২ সালে, গ্যালিলিওর মৃত্যুর ঠিক ৩০০ বছর পর ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড নগরীতে একটি চিকিৎসক পরিবারে । তিনি ১৯৫৯ সালে অক্সফোর্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ নামক প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষাজীবন শুরু করেন এবং ১৭ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীতে সম্মানসহ কলাবিদ্যায় স্নাতক উপাধি অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৬২ সালে কেম্ব্রিজ নগরীতে ট্রিনিটি হলে স্নাতোকত্তর পর্যায়ের অধ্যয়নকর্ম শুরু করেন এবং সেখান থেকে ১৯৬৬ সালে ফলিত গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন, যেখানে তাঁর গবেষণার বিশেষায়িত ক্ষেত্র ছিল সাধারণ আপেক্ষিকতা ও বিশ্বতত্ত্ব।
১৯৬৩ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে হকিংয়ের দেহে ধীরগতিতে অগ্রসরমান একপ্রকার চেষ্টীয় স্নায়ুকোষ রোগের প্রারম্ভিক জীবনকালীন সূত্রপাত নির্ণয় করা হয়, যে রোগের নাম পেশীক্ষয়কারী পার্শ্বিক কাঠিন্য রোগ (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস) বা লু গেরিগের রোগ। রোগটির কারণে হকিং পরবর্তী দশকগুলিতে ধীরে ধীরে ক্রমাগত উত্তরোত্তর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবুও বহু বছর যাবৎ তিনি তার গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলার পরও তিনি এক ধরনের ভাষা-উৎপাদনকারী যন্ত্রের সাহায্যে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতেন। প্রথমে হাতে রাখা একটি সুইচের মাধ্যমে এবং শেষ পর্যন্ত গালের একটিমাত্র পেশীর সাহায্যে তিনি যন্ত্রটি পরিচালনা করতেন।
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে হকিংয়ের প্রধান অবদান দুইটি। প্রথমত তিনি সতীর্থ রজার পেনরোজের সঙ্গে মিলে সাধারণ আপেক্ষিকতার প্রসঙ্গকাঠামোর ভেতরে মহাকর্ষীয় অদ্বৈত অবস্থান সংক্রান্ত কিছু উপপাদ্য প্রদান করেন, যাদের নাম 'পেনরোজ-হকিং অদ্বৈত অবস্থান উপপাদ্যসমূহ।' দ্বিতীয়ত তিনি অনিশ্চয়তার তত্ত্ব কৃষ্ণগহ্বর-এর ঘটনা দিগন্তে প্রয়োগ করে দেখান যে কৃষ্ণগহ্বর থেকে কণাপ্রবাহ বিকিরিত হয়। এই বিকিরণকে বর্তমানে হকিং বিকিরণ (অথবা কখনো কখনো বেকেনস্টাইন-হকিং বিকিরণ) নামে অভিহিত করা হয়। এছাড়া হকিংই প্রথম বিজ্ঞানী হিসেবে আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের একীভবনের মাধ্যমে একটি বিশ্বতত্ত্ব নির্মাণের প্রচেষ্টা চালান। তিনি কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের বহু-বিশ্ব ব্যাখ্যার বলিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
হকিং জনপ্রিয় ধারার বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করে বাণিজ্যিক সাফল্যও অর্জন করেন। এই গ্রন্থগুলিতে তিনি নিজের তত্ত্ব ও বিশ্বতত্ত্ব নিয়ে সাধারণ আলোচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'সময়ের ইতিবৃত্ত' (আ ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম) ব্রিটিশ দ্য সানডে টাইমস পত্রিকার সর্বোচ্চ বিক্রিত বইয়ের তালিকায় রেকর্ড ভঙ্গকারী ২৩৭ সপ্তাহ সময়কাল ধরে বিদ্যমান ছিল। তিনি রয়্যাল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানিত সভ্য বা ফেলো এবং পন্টিফিক্যাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার "প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম" (রাষ্ট্রপতির মুক্তি পদক) খেতাবে ভূষিত হন। ২০০২ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম সংস্থা বিবিসি পরিচালিত যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের "সেরা ১০০ যুক্তরাজ্যবাসী" ("হান্ড্রেড গ্রেটেস্ট ব্রাইটন্স") নামক জরিপে তিনি ২৫তম স্থান অধিকার করেন। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশী সময়কাল ধরে চেষ্টীয় স্নায়ুকোষ রোগে ভোগার পরে হকিং ২০১৮ সালের ১৪ই মার্চ তারিখে আইনস্টাইনের জন্মের ঠিক ১৩৯ বছর পূর্তির দিন ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
(ক্রমশ)



দারুন বন্ধু...খুব ভালো লাগলো...ভালোবাসা রইলো ভাই...
ReplyDeleteধন্যবাদ, এভাবেই পাশে থাকুন ।
DeletePorer onsho kobe asche?
ReplyDeleteOpekha korte parchi na.
Hooked..
ধন্যবাদ, থেমে খান দই আসছে
DeleteAwesome
ReplyDeleteখুব ভালো হচ্ছে ষ। দ্বিতীয় অংশের অপেক্ষায়।🥰🥰🥰🥰
ReplyDeleteধন্যবাদ
Deleteসাথে থাকুন
Delete